বাংলাদেশের সেরা ওয়েবসাইট

লেকচার-১

সুন্নী উত্তরাধিকার আইন 

সূচনা বক্তব্যঃ

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন গড়ে উঠেছে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ ও উজমার উপর ভিত্তি করে । কোন মুসলিম মারা যাবার পর তার সম্পত্তিতে কুরআন সুন্নাহ ও ইজমার দ্বারা নির্ধারিত উত্তরাধিকাররা উত্তরাধিকার লাভ করে। সমগ্র মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েজ এর গুরুত্ব সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, “তোমরা উত্তরাধিকার আইন শিক্ষা কর, এবং লোকদেরকে তা শিক্ষা দাও, যেহেতু উহা প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অর্ধেক”

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বলে বিচারাদালতে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন একটি অপরিহার্য বিষয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রমহ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায়ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন  সম্পর্কিত এই লেকচারটি পড়লে আপনি নিম্নোক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন যা আপনার অ্যাকাডেমিক, পেশাগত কিংবা প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় কাজে লাগবে। 

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের উৎসঃ

মুসলিম আইনের অন্যান্য বিষয়ের উৎসের মতই উত্তারধিকার আইনের মূল উৎস হলো পবিত্র আল-কুরআন। কুরআন শরীফের সুরা নিসাসহ অন্যান্য সূরায় উত্তরাধিকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট অংশ নিার্ধারন করা হয়েছে। এছাড়া হাদীস বা সুন্নাহ এবং ইজমা বা মতৈক্য ও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের অন্যতম উৎস। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের আইন ও নজীরসমূহ স্ব-স্ব দেশে উত্তরাধিকার আইনের উৎস হিসেবে গণ্য হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে হেদায়া ‍ও ফতোয়া-ই-আলমগিরিও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের উৎস হিসেবে গন্য হয়। 

সূরা নিসার ৭,৮,১১,১২,৩২,৩৩ও ১৭৬ আয়াতসমূহে স্বামী, স্ত্রী,ভাইবোন প্রভৃতি উত্তরাধিকারদের প্রাপ্ত অংশ সম্পর্কে বিধান রয়েছেঠ। এছাড়াও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর হাদীসও উত্তরাধিকার আইনের উৎস। 

পরবর্তীকালে হসলামী আইন বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মুসলিমরা শিয়া ও সুন্নী দুইভাগে বিভক্ত হয়। সুন্নীরা পুনরায় চারটি বৃহৎ মাযহাবে ও শিয়ারাও অনেকগুলো গোত্রে বিভক্ত হয়। নিম্নে ফ্লো চার্টের সাহায্যে বিষয়টি তুলে ধরা হলো:

মুসলিম

সুন্নী-শিয়া

হানাফী, মালিকী, শাফিই, হাম্বলী,। ইশনা আশারিয়া, ইসমাইলিয়া, জাইদীয়া,

নানা শ্রেণি-উপশ্রেণিতে মুসলমানগণ পরবর্তীতে বিভক্ত হলেও মূলগতভাবে কুরআন ও হাদীসের বিধানাবলী মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের মূল উৎস বলে বিবেচিত হয়। 

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্নী মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ । এদের মধ্যে হানাফী মাযহাবের মুসলমানরা ভারতীয় উপমহাদেশে বেশি বাস করে । আলোচনার সুবিধার্থে আমরা সুন্নী উত্তরাধীকার সম্বন্ধে প্রথমে আলোচনা করব। 

উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তিঃ

কোন মুসলমান মারা যাবার পূর্বে সম্পত্তি নানাভাবে অর্জন করতে পারেন। মৃত ব্যক্তি আত্মলব্ধ সম্পত্তির পাশাপাশি উত্তরাধিকারসূত্রেও সম্পত্তি লাভ করতে পারেন। মুসলিম আইন মৃত ব্যক্তির অর্জিত বা লব্ধ সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিষয়ে কোন শ্রেণিবিভেদ করে না, তবে একজন মুসলিম মারা যাবার সময় যেসব সম্পত্তি রেখে মারা যান তার সম্স্ত সম্পত্তিই উত্তরাধিকারযোগ্য নয়। উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি নির্ধারণের পূর্বে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে কতিপয় বিষয়ের ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। এগুলো হলো-

ক. মৃত ব্যক্তির সৎকার সংক্রান্ত ব্যয়

খ. মৃত ব্যক্তির গ্রহীত ঋণ 

গ. মৃত ব্যক্তির উইলে লিখিত সম্পত্তি

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে উপরোক্ত বিষয়ের ব্যয়  নির্বাহের পর উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি নির্ধারণ করতে হয়। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে তার সৎকার প্রথমে নির্বাহ করতে হবে, এরপর কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। তৃতীয়ত: তিনি যদি কোন উইল করে থাকেন তার সম্পত্তি থেকে উইলকৃত সম্পত্তি বাদ দিয়ে উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। 

সুন্নী উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতিসমূহঃ

উত্তরাধিকার বিষয়ে সুন্নী আইনের সাথে শিয়া আইনের কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে সিংহভাগ মুসলিম যেহেতু সুন্নী এবং অ্যাকাডেমিক ও পেশাগত জীবনে সুন্নী উত্তরাধিকার সম্পর্কিত সমস্যা বেশি মোকাবিলা করতে হয়, সুতরাং এ চ্যাপ্টারে সুন্নী উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতিসমূহই আলোচনা করা হবে।

উত্তরাধিকার আইন মুসলিম আইনের একটি অপরিহার্য অংশ। মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা:) এরশাদ করেছেন, ফারায়েজের জ্ঞান হলো সমগ্র জ্ঞানের অর্ধেক। নিম্নে সুন্নী আইনের মূলনীতিসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ-

ক. মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় থেকে উত্তরাধিকার আরম্ভ হয় ঃ

মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর মুহুর্ত থেকে উত্তরাধিকারের সূচনা হয়। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় যারা তার উত্তরাধিকার হিসেবেজীবিত থাকে তারাই তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারের জন্য বিবেচিত হবে অন্য কেউ নয়।

পুরুষ নারীর দ্বিগুন সম্পত্তি পায়ঃ

ইসলাম পূর্ব সময়ে কিংবা অন্যান্য কিছু ধর্মে নারীদের সম্পত্তির অধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু ইসলামে সম্পত্তিতে নারীর অধিকারকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যেক্ষেত্রে একই স্তরের নারী ও পুরুষ মৃতের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হয় সেক্ষেত্রে পুরুষ নারীর দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়। অর্থাৎ দুজন নারী ও একজন একজন সমস্তরের পুরুষ সমান সম্পত্তি লাভ করে। পবিত্র কুরআনের সুরা ‍নিসায় এ বিধান রয়েছে। একে তাসিব নীতি বলে। যেমন, পিতার সম্পত্তিতে ভাইবোন ২:১ অনুপাতে কিংবা সন্তানের সম্পত্তিতে পিতা-মাতা ২:১ অনুপাতে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করে। 

প্রতিনিধিত্ব নীতিঃ

প্রতিনিধিত্ব নীতি বলতে একজন ব্যক্তিকে তার বৈধ উত্তরাধিকারী দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করে। ইসলামী আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ স্বীকৃত নয়। অর্থা পূর্বে মৃত পিতার অবর্তমানে তার পুত্র পিতামহের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকািরী হতে পারে না। তবে বাংলাদেশে ১৯৬১ প্রণীত পারিবারিক আইন আইন অধ্যাদেশ দ্বারা অধস্তন একপুরুষ পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব মতবাদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পূর্বে মৃত পিতার সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশে তার পিতামহের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে। 

নিকটবর্তী উত্তরাধিকারী দূরতবর্তী উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করেঃ

মুসলিম শরীয়া আইনের ক্ষেত্রে দেখা যায় নিকটবর্তী শ্রেণির উত্তরাধিকারী দূরবর্তী শ্রেণির উত্তরাধিকারীকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে। অর্থাৎ একজন কোরানিক অংশিদার যদি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় তাহলে তার নিচের স্তরের উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করে। এছাড়া দূরবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে উপরে অবস্থানরত দূরবর্তী আত্মীয়, নিচে অবস্থানরত দূরবর্তী আত্মীয়দেরেকে উত্তরাধিকারীত্ব থেকে বঞ্চিত করে।

উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিগণঃ

সুন্নী আইনের নীতি হলো যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটিত করে সে ব্যক্তি ঐ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাাভ করতে পারে না। হত্যাকারী ব্যক্তি এরূপ মৃত্যু ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটিয়েছে কিনা তা বিবেচ্য বিষয় নয়। একইসাথে হত্যাকান্ডে প্ররোচনা দানকারী ব্যক্তিও মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

খ. অবৈধ সন্তানঃ

অবৈধ বিবাহ জাত বা বিবাহ বহির্ভূতভাবে জাত সন্তানই অবৈধ সন্তান।এই অবৈধ সন্তান তার পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করতে পারে না। তাবে হানাফী মতবাদ অনুযায়ী অবৈধ সন্তান তার মায়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে। 

গ. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীঃ

কোন মুসলমান ব্যক্তির সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী যদি ধর্ম পরিবর্তন করে তাহলে সে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না। অর্থাৎ কোন মুসলমানের সম্পত্তিতে কোন অমুসলিম ব্যক্তি উত্তরাধিকারী হতে পারে না। 

ঘ. বৈদেশিক শত্রুঃ

একটি রাষ্ট্রের নাগরিক যখন নিজের রাষ্ট্রের বিরূদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হলে তাকে ঐ রাষ্ট্রের বৈদেশিক শত্রু হিসেবে অভিহিত করা চলে। অথবা অন্য রাষ্ট্রের নাগরিক যখন কোন রাষ্ট্রের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বা যুদ্ধ ঘোষণা করে বা যুদ্ধে লিপ্ত হয় তখন এরূপ ব্যক্তিকেও বৈদেশিক শত্রু বলা হয়। এজন্য বৈদেশিক শত্রু কখনো কোন রাষ্ট্রের নাগরিকের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না। 

ঙ. দাসঃ

ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কোন দাস তার মনিবের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না। তবে বর্তমানে সারা বিশ্বে দাস প্রথা বিলুপ্ত বলে এই বিধান আর প্রযোজ্য নয়। 

সুন্নী উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারদের শ্রেণিবিভাগঃ

আসফ আলী আসগর ফায়েজী তার বিখ্যাত বই ‘মোহাম্মদী আইনের রূপরেখা’ বইয়ে বলেন, হানাফী আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের সাত শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। এর মধ্যে প্রথম তিন শ্রেণির উত্তরাধিকারী প্রধান এবং শেষের চার শ্রেণির উত্তরাধিকারী অপ্রধান। 

প্রধান তিন শ্রেনি হলোঃ

ক. জাবুল ফুরুজ বা কোরানিক অংশীদার;

খ. জাবুল আশাবাত বা অংবশিষ্টাংশভোগী অংশীদার; এবং

গ. জাবুল আরহাম বা দূরবর্তী আত্মীয়

জাবুল ফুরুজ বা কোরানিক শেয়ারারঃ

যেসব উত্তরাধিকারীর নাম কোরআনে উল্লেখ  আছে বা যারা সম্পত্তিতে একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রাপ্ত হয় তারাই কোরানিক শেয়ারার। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার বন্টনের সময় কোরানিক অংশীদাররা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়। মোট কোরানিক অংশীদার হলো ১২ জন। তারা হলো: স্বামী,স্ত্রী,কন্যা, পুত্রের কন্যা, মাতা , পূর্ণ মাতামহ, পিতা, পূর্ণ পিতামহ, আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় বোন এবং বৈপিত্রেয় ভাই। 

জাবুল আশাবাত বা অবশিষ্টাংশভোগীঃ

কোরানিক অংশীদারদের সম্পত্তি বন্টনের পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে সে সম্পত্তি যারা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে তাদের জাবুল আশাবাত বলে। মোট ১৮ জন ব্যক্তি অবশিষ্টাংশ ভোগী উত্তরাধিকার হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি লাভ করতে পারে। এদের সকলেই পিতার সূত্রে উত্তরাধিকারী হয়। অবশিষ্টভোগী উত্তরাধিকারীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নেই।

জাবুল আরহাম বা দূরবর্তী আত্মীয়

কোরানিক অংশীদার ও অবশিষ্টাংশভোগী উত্তরাধিকারী ছাড়া অবশিষ্ট সব আত্মীয় দূরবর্তী আত্মীয় শ্রেণিভূক্ত উত্তরাধিকারী। দূরাত্মীয়দের পুনরায় চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। তবে কেবল অবশিষ্টভোগীদের অবর্তমানেই দূরাত্মীরা সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে। পূর্ববর্তী শ্রেণির দূরবর্তী আত্মীয় পরবর্তী শ্রেণির দূরাত্মীয়কে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে। 

অপ্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীঃ

চার শ্রেণির উত্তরাধিকারী রয়েছে। যথা: 

ক. চুক্তিমূলে উত্তরাধিকারী;

খ পোষ্য আত্মীয় উত্তরাধিকারী

গ. সার্বজনীন উইলগ্রহীতা

ঘ. রাষ্ট্র

চুক্তি অনুযায়ী উত্তরাধিকারীঃ

চুক্তি অনুযায়ী উত্তরাধিকারী দুই প্রকারে সৃষ্টি হয়। 

ক. মুক্তিদান; এবং

খ. বন্ধুত্ব

মুক্তিদানের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীঃ

কোন মুসলিম তার দাসকে মুক্তি দিলে সে ব্যক্তি ঐ দাসের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হতে পারে। বর্তমানে দাসপ্রথা আন্তর্জাতিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষিত হওয়ায় এ নীতি প্রযোজ্য নয়। 

বন্ধুত্বের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীঃ

কোন মুসলিম ব্যক্তি অপর কোন মুসলিম আগন্তুকের সাথে, তার মৃত্যুর পর আগন্তুক কিছু জরিমানা বা পণ শোধ করলে ঐ ব্যক্তির সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হতে পারবে এই মর্মে চুক্তি করলেও আগন্তুক ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হতে পারবে। তবে বর্তমানে এ প্রথাও স্থগিত করা হয়েছে। 

পোষ্য আত্মীয়ঃ

কোরানিক , অবশিষ্টাংশভোগী কিংবা দূরবর্তী আত্মীয়দের অনুপস্থিতিতে কোন মুসলিম ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে তার পোষ্য আত্মীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে। এই পোষ্য আত্মীয় তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে। তবে কোন মুসলিম কোন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিজের পুত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে না। কেবলমাত্র তার পুরুষ আত্মীয়সূত্রে আত্মীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে। যেমন, কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে তার ভাই বা চাচা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে। 

সার্বজনীন উইলগ্রহীতাঃ

কোন মুসলমান ব্যক্তির কোন প্রকার উত্তরাধিকারীই না থাকলে কোন অপরিচিত ব্যক্তি বরাবর তিনি তার সমগ্র সম্পত্তিই উইলমূলে হস্তান্তর করতে পারে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ উইল করার যে বিধান আছে তা প্রযোজ্য হবে না। 

রাষ্ট্রঃ

কোন মৃত ব্যক্তির কোন প্রকারের উত্তরাধিকারী কিংবা সার্বজনীন উইলগ্রহীতা না থাকলে তার মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রই ঐ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ।